Saturday, December 6, 2014

Want to Be an Advance Graphic Designer?

দক্ষ গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে চান?

কোয়ালিটি গ্রাফিক্স রিসোর্স লাগবে?
গত বছর DeviantART তাদের গ্রুপ প্লাটফর্ম চালু করার পর থেকে ফ্রি এবং কোয়ালিটি গ্রাফিক আর্ট ডাওনলোডের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। এমনি একটি গ্রুপ হল AI-Resources যারা এডোবি ইলাষ্ট্রেটর এর উপর অসাধারণ গ্রাফিক আর্ট ফ্রি ডাওনলোড করার সুযোগ দিয়ে থাকে। আজ সেখান থেকে কিছু ভাল লাগা কনটেন্ট আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। যারা গ্রাফিক্স ডিজাইনের মত অসাধারণ একটি ক্রিয়েটিভ প্লাটফর্মে কাজ করছেন তাদের কাজে আসবে আশা করি।
এখানে যে কনটেন্ট গুলো শেয়ার করবো সেগুলো মূলত ৫ টি বিভাগে বিভক্তঃ
টিওটোরিয়া, ব্রাশ, প্যাটার্ন, ডাওনলোডেবল ফাইল এবং কন্টেন্টস।
চলুন তবে রিসোর্সগুলো দেখে নিইঃ
১। টিউটোরিয়ালঃ
এই গ্রুপটি মূলত ফ্রি টেক্সট টিউটোরিয়াল প্রোভাইড করে।
লিংকঃ http://deviantjc.deviantart.com/art/Adam-s-Apple-Walkthroutorial-106139812
ভেক্টর পেইন্টিং: http://ryannzha.deviantart.com/art/Vector-painting-Tutorial-109514192
প্যাটার্ন ব্রাশ টিউটোরিয়ালঃ http://carinareis.deviantart.com/art/Pattern-Brush-Tutorial-113820550
২. ব্রাশঃ ইলাষ্ট্রেটরে স্পেশাল ইফেক্ট দিতে গেলে ব্রাশ বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চলুন কিছু ব্রাশ দেখে নিইঃ
ব্রাশঃ http://ai-resources.deviantart.com/gallery/23919763
এবষ্ট্রাক্ট ব্রাশঃ http://humannature84.deviantart.com/art/Abstract-brushes-2-0-152985121
ইলাষ্ট্রেটর ব্রাশ সেটঃ http://nrmb.deviantart.com/art/illustrator-brush-set-3-105937495
ক্যান্ডি কেইন ব্রাশঃ http://pica-stock.deviantart.com/art/Candy-Cane-Brush-145084683
৩. প্যাটার্ণঃ ইলাষ্ট্রেটর এ টেক্সচার কিংবা ব্যাকগ্রাউন্ডের কাজে প্যাটার্ণের ভূমিকা অনস্বীকার্য, এটা যেন আর্টের ভেতরের আর্ট।
ফিফটিস ওয়ালপেপার প্যাটার্ণঃ http://asseyedee.deviantart.com/art/Fifties-Wallpaper-Pattern-78384317
52হাফটোন প্যাটার্ণঃ http://faeriedreamer.deviantart.com/art/52-Halftone-Patterns-88266989
ইলাষ্ট্রেটর সাসিকো প্যাটার্ণঃ http://shoriameshiko.deviantart.com/art/Illustrator-Sashiko-Patterns-23518999
R2010 প্যাটার্ণ প্যাকঃ http://r2010.deviantart.com/art/r2010-pattern-pack-1-130513836
৪. ডাউনলোডঃ আইকন থেকে শুরু করে আর্ট পিস এখান থেকে ডাউনলোড করতে পারবেন। তবে বেশিরভাগ ফাইলই শেখার কাজে ব্যবহার যোগ্য। এক্সপার্ট্রা কিভাবে কাজ করে সেটা পার্ট বাই পার্ট দেখার সুযোগ পাবেন।
ব্লু ভেক্টর রিমিক্সঃ http://chewedkandi.deviantart.com/art/Blonde-on-Blue-Vector-Remix-110496917
নোটবুক ষ্টকঃ http://enigmasi.deviantart.com/art/Notebook-Stock-ai-164706362
মাশরুম ভেক্টর প্যাকঃ http://pixelworlds.deviantart.com/art/Mushroom-Vector-Pack-164777308
এ আই ফাইলঃ http://limkis.deviantart.com/art/Ai-file-Hall-of-shame-116723983
এ আই রিসোর্সঃ http://ai-resources.deviantart.com/
তবে মনে রাখবেন, কিছু রিসোর্সের ক্ষেত্রে হয়তো ডেভিয়েন্ট আর্টের মেম্বারশীপ চাইতে পারে, সেক্ষেত্রে একটু সময় নিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করে মেম্বার হয়ে যাবেন। এতে আপনার এক কড়িও খরচ হবে না। আর রিসোর্স ব্যবহার করার আগে সেগুলোর রিসোর্স রুলসগুলো পড়ে নিবেন। কারণ কিছু কিছু ফাইল এডুকেশন পারপাস দেয়া আছে।
THanks to Devsteam….

সংগ্রহে : Rabiul Auwal

আউটসোর্সিংঃ সফল হবো কখন?

আজ থেকে ১৫-২০ বছর আগে বিদেশ সম্পর্কে মানুষের ধারণা ছিল বিদেশ মানেই টাকা। জমি-টমি বিক্রি করে কোন ভাবে একবার বিদেশ যেতে পারলে জীবনে আর কোন দিন টাকার অভাব হবে না। বিদেশ গেলে মাসে লাক লাক টাকা ইনকাম করা যায়।
বিদেশ সম্পর্কে এই ধারণা আজ বদলে গেছে। কাজ না জেনে বিদেশ গেলে দেশে যেমন বেকার থাকতে হয় তেমনি বিদেশেও বেকার থাকতে হয়।
আউটসোর্সিং সম্পর্কেও অনেকের ধারণা আউটসোর্সিং মানেই টাকা। একবার আউটসোর্সিংয়ের খাতায় নাম লেখালে বা কোথাও ২-৩ মাসের কোর্স করলে জীবনে আর টাকার অভাব হবে না। আউটসোর্সিং করে মাসে লাক লাক টাকা ইনকাম করতে পারবে।
ধীরে ধীরে মানুষের এই ধারণাও ভুল প্রমাণিত হচ্ছে। আউটসোর্সিংয়ের খাতায় নাম লেখালে মানে কোন মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খুললে বা কোথাও ২-৩ মাসের কোর্স করলেই সফল হওয়া যায় না। সফল হওয়ার জন্য দীর্ঘ দিন প্র্যাকটিস করে যেতে হয়।
কোথাও ২-৩ মাসের কোর্স করলে কারা সফল হয়? যারা অনেকদিন ধরে আউটসোর্সিংয়ের চেষ্টা করে যাচ্ছে কিন্তু সফল হতে পারছে না তারা কোথাও ২-৩ মাসের কোর্স করলে সফল হয়। আর যারা একেবারেই নতুন তারা কোথাও ২-৩ মাসের কোর্স করলে হয়তো ভালো গাইডলাইন পায় কিন্তু সফল হতে পারে না। সফল হওয়ার জন্য তাদেরকে আরো অনেকদিন নিজে নিজে বাসায় প্র্যাকটিস করে যেতে হয়।
-আমিনুর রহমান

Friday, December 5, 2014

SMM-Social Media Marketing

সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং

ইদানিং অনেকেই অনলাইনে যতক্ষণ সময় থাকেন তার অনেকটাই কাটায় ফেসবুকে। কারো কারো কাছে আবার ফেসবুক নেশার মত হয়ে গেছে। রাত দিন শুধু ফেসবুক নিয়েই পড়ে থাকেন। আর তাই এই ফেসবুককেই অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবসার ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে। এখন অনেক প্রতিষ্ঠানই তাদের ব্যবসায়িক পন্যের বিজ্ঞাপন দেয় ফেসবুকে। ফেসবুকে এখন ওয়েবসাইটের মত করে ফেসবুক ফ্যান পেইজ তৈরি করা যায়। এতে ভিডিও, ফটো, বিভিন্ন ওয়েব ঠিকানা সহ বিভিন্ন কিছু যুক্ত করা যায়। আমরা যখন এই পেইজগুলোতে লাইক দেই তখন এই পেইজগুলো আমাদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সাথে যুক্ত হয়ে যায়। যখনই এই পেইজে কোন কিছু পোস্ট করা হয় তখনই এই পেইজগুলো ফেসবুক ওয়ালে আমাদের নজরে আসে। তখন এই পেইজে থাকা বিভিন্ন পন্যের বিজ্ঞাপন হয়। এই পেইজে ওয়েবসাইটের ঠিকানা দেয়া থাকে। এতে অনেকে ঐ ওয়েবসাইট ভিজিট করে। তখন ঐ ওয়েব সাইটের ভিজিটর বেড়ে যায়। তাদের পন্যের প্রচারও বেশি হয়, বিক্রয়ও বেশি হয়। ফেসবুকের মাধ্যমে এভাবে মার্কেটিং করাকে ফেসবুক মার্কেটিং বলে। আর ফেসবুক, টুইটার, গুগল প্লাস, ইউটিউব ইত্যাদির মাধ্যমে অর্থাৎ সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোর মাধ্যমে মার্কেটিং করাকে সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (SMM- Social Media Marketing) বলে।
সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে বিনামূল্যে ফ্যান পেইজ খোলা যায়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের ফ্যান পেইজের জন্য ফেসবুক লাইক, টুইটার ফলোয়ার, গুগলপ্লাস, ইউটিউব ভিউয়ার ইত্যাদি কিনে। মানে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সারকে ভাড়া করে তাদের ফ্যান পেইজে অনেক ফেসবুক লাইক, টুইটার ফলোয়ার, গুগলপ্লাস, ইউটিউব ভিউয়ার ইত্যাদি কালেক্ট করে দেয়ার জন্য। এতে অল্প সময়ে অল্প ব্যয়ে ঐ প্রতিষ্ঠানের প্রচারও ভাল হয়, বিক্রিও বেশি হয়। আর ফ্রিল্যান্সারাও এই জাতীয় অনেক কাজ পেয়ে থাকে। এই সব কাজ করার জন্য তেমন দক্ষতারও প্রয়োজন হয় না। শুধু সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলো সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকলেই চলে। আপনি যদি সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোর ওয়ালে এই ফ্যান পেইজ গুলো পোস্ট করেন ক্লিক/লাইক দেয়ার জন্য, বন্ধুদেরকে ইনভাইট করেন, বিভিন্ন গ্রুপে পোস্ট করেন তাতেই হয়ে যায়। সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং সম্পর্কিত যে কাজ/জব গুলো আউটসোর্সিং সাইটে পাওয়া যায় সেগুলো হল কাউকে(কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য) ফেসবুকে, টুইটারে, গুগলপ্লাসে অ্যাকাউন্ট খুলে দেয়া, ফ্যান পেইজ তৈরি করে দেয়া, ফ্যান পেইজে লাইক, ফলোয়ার, ভিউয়ার কালেক্ট করে দেয়া, ফেসবুকে বা অন্য কোন সাইটে ভোট দেয়া, ভোট কালেক্ট করে দেয়া ইত্যাদি। কোন আউটসোর্সিং সাইটে অ্যাকাউন্ট খোলে ফেসবুক, টুইটার, গুগলপ্লাস, ইউটিউব ইত্যাদি লিখে সার্চ দিলেই এই রিলেটেড অসংখ্য কাজ/জব দেখতে পাবেন।
সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং সম্পর্কে আরো দক্ষ হতে চাইলে গুগলে সার্চ দেন দেখবেন অনেক অনেক টিউটরিয়াল পাবেন। টিউটোরিয়াল শুধু পড়লে বা দেখলেই হবে না সাথে সাথে প্রচুর পরিমাণে প্র্যাকটিস করতে হবে। দক্ষতা বাড়াতে বেশি বেশি প্র্যাকটিস এর কোন বিকল্প নাই।
-আমিনুর রহমান

SEO-Search Engine Optimization

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও হচ্ছে ধারাবাহিক পরিবর্তনের মধ্যমে একটি ওয়েবসাইটের উন্নতি সাধন করা। যারা আউটসোর্সিং এর সাথে জড়িত তারা নিশ্চয়ই সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা  SEO শব্দটার সাথে পরিচিত। বিভিন্ন আউটসোর্সিং মার্কেটপ্লেসে প্রতিদিনই এধরনের কাজ পাওয়া যায়। বাংলাদেশী অনেক ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন যারা অত্যন্ত সফলতার সাথে এ কাজগুলো করছেন। তবে অনেকের কাছে বিষয়টি প্রায় সময়ই বোধগম্য হয় না, ফলে আগ্রহ থাকার পরও কীভাবে শুরু করতে হবে তা বুঝে উঠতে পারেন না। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন একটি বিশাল ক্ষেত্র, এর সাথে অনেক ধরনের বিষয় জড়িত।
সার্চ ইঞ্জিন:
প্রথমেই দেখা যাক সার্চ ইঞ্জিন বলতে কী বুঝায়। সার্চ ইঞ্জিন হচ্ছে এক ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রাম যা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন তথ্যকে তার নিজের ডাটাবেইজে সংরক্ষণ করে রাখে এবং পরবর্তীতে ব্যবহারকারীর চাহিদা অনুসারে ওয়েবসাইটে প্রদর্শন করে। সার্চ ইঞ্জিনগুলো এক ধরনের রোবট প্রোগ্রামের সাহায্যে নিরলসভাবে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তথ্য সংরক্ষণ করতে থাকে যা ইন্ডেক্সিং (Indexing) নামে পরিচিত। জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় গুগল, তারপর মাইক্রোসফটের বিং, তারপর ইয়াহু।
সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন:
সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) হচ্ছে এমন এক ধরনের পদ্ধতি যার মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলা, যাতে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের সার্চ রেজাল্টে ওয়েবসাইটটি অন্য সাইটকে পেছনে ফেলে সবার আগে প্রদর্শিত হতে পারে। এই ধরনের সার্চ রেজাল্টকে Organic বা Natural সার্চ রেজাল্ট বলা হয়। সার্চ রেজাল্টের প্রথম পৃষ্ঠায় দশটি ওয়েবসাইটের মধ্যে নিজের ওয়েবসাইটকে নিয়ে আসাই সবার লক্ষ্য থাকে। এর কারণ হিসেবে দেখা যায় ব্যবহারকারীরা সাধারণত শীর্ষ দশের মধ্যে তার কাঙ্খিত ওয়েবসাইটকে না পেলে দ্বিতীয় পাতায় না গিয়ে অন্য কোন শব্দ ব্যবহার করে পুনরায় সার্চ করেন। শীর্ষ দশে থাকার মানে হচ্ছে ওয়েবসাইটে বেশি সংখ্যক ভিজিটর পাওয়া আর বেশি সংখ্যক ভিজিটর মানে হচ্ছে বেশি আয় করা। এজন্য সবাই মরিয়া হয়ে নিজের ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের জন্য উপযুক্ত করে তুলেন।
সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের সাথে অনেক বিষয় জড়িত। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এক্ষেত্রে প্রথমেই সাইটের জন্য এক বা একাধিক নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড (Keyword) বা শব্দগুচ্ছ বাছাই করতে হয়। কিওয়ার্ড বাছাই করার পূর্বে সময় নিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন। এমন একটি কিওয়ার্ড বাছাই করতে হয় যাতে এর প্রতিদ্বন্ধী কম থাকে। ধরা যাক অনলাইনে গেম খেলার একটি সাইটের জন্য যদি ‘Online Game’ কিওয়ার্ড বাছাই করা হয়, তাহলে এই শব্দ দিয়ে গুগলে সার্চ করলে ১.৬ কোটি সাইটের ফলাফল হাজির হবে। তাদের মধ্যে হাজারও জনপ্রিয় সাইট পাওয়া যাবে যেগুলোকে অতিক্রম করে প্রথম পাতায় আসাটা প্রায় অসম্ভব হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে কিওয়ার্ডের সাথে আরো কয়েকটি শব্দ যদি যোগ করা যায় তাহলে দেখা যাবে প্রতিদ্বন্ধী ওয়েবসাইটের সংখ্যা কমে আসবে। কিওয়ার্ড নিয়ে গবেষণার জন্য সবচেয়ে ভাল হচ্ছে গুগল এডওয়ার্ডের কিওয়ার্ড টুলটি
https://adwords.google.co.uk/o/KeywordTool
অন পেজ অপটিমাইজেশন:
সাইটের জন্য সঠিক কিওয়ার্ড বাছাইয়ের পর এর বিভিন্ন অংশে এই কিওয়ার্ডটির প্রতিফলন থাকতে হয়। প্রথমত ওয়েবসাইটের ডোমেইন নামে যদি বাছাইকৃত কিওয়ার্ডটি থাকে তাহলে সবচেয়ে ভাল। দ্বিতীয়ত HTML এর title ট্যাগে কিওয়ার্ড থাকা উচিত। সাইটের title ট্যাগটি ঠিকভাবে সাজানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই অংশটি একজন ব্যবহারকারী এবং সার্চ ইঞ্জিনকে সেই পৃষ্ঠায় কী তথ্য রয়েছে তা নির্দেশ করে। তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ওয়েবসাইটের ‘description’ meta ট্যাগ। এর মাধ্যমে ওই পৃষ্ঠার সারমর্ম লেখা হয়, যা সার্চ ইঞ্জিনকে সঠিকভাবে সেই পৃষ্ঠা ইন্ডেক্সিং এ সহায়তা করে। এই ধরনের পদ্ধতিকে On Page Optimization বলা হয়।
title-ট্যাগের ব্যবহার
একটি HTML পৃষ্ঠার টাইটেল ট্যাগ থেকে সেই পৃষ্ঠার বিষয়বস্তু সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়, যা একজন ব্যবহারকারী এবং সার্চ ইঞ্জিনের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। HTML ডকুমেন্টের <head> ট্যাগের মধ্যে <title> ট্যাগ লেখা হয়। টাইটেল ট্যাগটি ওয়েব ব্রাউজারের টাইটেলবারে এবং সার্চের সময় প্রথমেই দৃশ্যমান হয়। টাইটেল ট্যাগের মধ্যে সাধারণত সাইটের নাম এবং পৃষ্ঠার বিষয়বস্তু যুক্ত করা হয়। একটি সাইটের প্রত্যেকটি পৃষ্ঠার জন্য ভিন্ন ভিন্ন টাইটেল ট্যাগ থাকা প্রয়োজন। এতে সাইটের পৃষ্ঠাগুলোকে গুগল আলাদাভাবে সনাক্ত করতে পারে। পৃষ্ঠার বিষযবস্তুর সাথে সম্পৃক্ত নয় এমন শিরোনাম পরিহার করা উচিত। টাইটেল ট্যাগে অপ্রয়োজনীয় এবং অপ্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড যুক্ত না করাই ভালো। টাইটেল ট্যাগ হতে হবে বর্ণনামূলক অথচ সংক্ষিপ্ত। অনেক লম্বা টাইটেল ট্যাগ ব্যবহার করলে সার্চের ক্ষেত্রে গুগল শুধুমাত্র এর অংশবিশেষ প্রদর্শন করে।
description-মেটা ট্যাগ
একটি HTML ডকুমেন্টের description মেটা ট্যাগের মধ্যে ওই পৃষ্ঠা সারসংক্ষেপ যুক্ত করা হয়, যা গুগল এবং অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনকে সাইটের পৃষ্ঠাটি সম্পর্কে ভাল ধারণা দেয়। যেখানে title ট্যাগ কয়েকটি শব্দের সমন্নয়ে গঠিত সেখানে description মেটা ট্যাগের মধ্যে এক বা একাধিক লাইনের একটি প্যারাগ্রাফ দিতে হয়। টাইটেল ট্যাগের মত এটিও <head> ট্যাগের মধ্যে <meta name=”description” content=”…”> এর মাধ্যমে যুক্ত করতে হয়। সাইটের প্রত্যেকটি পৃষ্ঠায় ভিন্ন ভিন্ন এবং সঠিক description যুক্ত করা প্রয়োজন, কারণ সার্চের ফলাফলে প্রায় সময় এটি প্রদর্শিত হয়। শুধুমাত্র কিওয়ার্ড দিয়ে description মেটা ট্যাগটি তৈরি করা উচিত নয়। অনেকে আবার পৃষ্ঠার মূল লেখাকে সরাসরি এই ট্যাগে লিখে ফেলেন যা মোটেও ঠিক নয়।
সাইটের কাঠামো URL পুনর্গঠন:
সহজবোধ্য ও বর্ণনামূলক URL সার্চ ইঞ্জিন এবং ব্যবহারকারীদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। সাইটের প্রত্যেকটি পৃষ্ঠার URL যাতে সেই পৃষ্ঠার বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ID বা ব্যবহারকারীদের কাছে অর্থহীন বিভিন্ন প্যারামিটার ব্যবহার না করে অর্থবোধক শব্দ ব্যবহার করা উচিত। উদাহরণ সরূপ http://yoursite.com?category_id=1&product_id=2 এর পরিবর্তে http://yoursite.com/books/book-title এভাবে URL লিখলে সার্চ ইঞ্জিন এবং ব্যবহারকারীদের কাছে পৃষ্ঠার বিষয়বস্তু পরিষ্কার হয়ে যায়। URL -এ যাতে অত্যাধিক কিওয়ার্ড না থাকে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
সহজ নেভিগেশন
সাইটের নেভিগেশন অর্থাৎ এক পৃষ্ঠা থেকে অন্য পৃষ্ঠায় যাওয়া যাতে সহজ হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সহজ নেভিগেশন একদিকে ব্যবহারকারীদেরকে যেরকম সাইটের তথ্য সহজেই খুজে পেতে সাহায্য করে অন্যদিকে সাইটের গুরুত্বপূর্ণ পৃষ্ঠাগুলোকে সার্চ ইঞ্জিন সহজেই খুজে পায়। সাইটের প্রথম পৃষ্ঠা বা হোমপেজ থেকে অন্যান্য সকল পৃষ্ঠায় কীভাবে যাওয়া যাবে তা প্রথমেই প্ল্যান করা উচিত। সাইটে অসংখ্য পৃষ্ঠা থাকলে সেগুলোকে বিভাগ এবং উপ-বিভাগে ভাগ করে রাখা প্রয়োজন। প্রত্যেকটি পৃষ্ঠায় breadcrumb লিস্ট যুক্ত করা ভাল, এর মাধ্যমে ব্যবহারকারী কত ধাপ ভেতরের পৃষ্ঠায় রয়েছে তা জানতে পারে এবং ইচ্ছে করলে লিংকে ক্লিক করে পূর্বের পৃষ্ঠায় যেতে পারে। এই লিস্টটি দেখতে সাধারণত এই রকম হয়ে থাকে-  Home > Products > Books।
সাইট ম্যাপের ব্যবহার
সাইট ম্যাপ দুই ধরনের হয়ে থাকে, প্রথমটি হচ্ছে একটি সাধারণ HMLT পৃষ্ঠা যেখানে সাইটের সকল পৃষ্ঠার লিংক যুক্ত করা হয়। মূলত কোন পৃষ্ঠা খুজে পেতে অসুবিধা হলে ব্যবহারকারীরা এই সাইট ম্যাপের সহায়তা নেয়। সার্চ ইঞ্জিনও এই সাইট ম্যাপ থেকে সাইটের সকল পৃষ্ঠার লিংক পেয়ে থাকে। দ্বিতীয় সাইটম্যাপ হচ্ছে একটি XML ফাইল যা “গুগল ওয়েবমাস্টার টুলস” নামক গুগলের একটি সাইটে সাবমিট করা হয়। সাইটের ঠিকানা হচ্ছে http://www.google.com/webmasters/tools। এই ফাইলের মাধ্যমে সাইটের সকল পৃষ্ঠা সম্পর্কে গুগল ভালভাবে অবগত হতে পারে। এই সাইটম্যাপ ফাইল তৈরি করতে গুগল একটি ওপেনসোর্স স্ক্রিপ্ট প্রদান করে যা এই লিংক থেকে পাওয়া যাবে
http://code.google.com/p/googlesitemapgenerator
404 পেজের গুরুত্ব
ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ব্রাউজিং করার সময় প্রায় সময় 404 নামক একটি পৃষ্ঠার সম্মুখীন হন। সাইটের লিংক ভুল থাকলে কিংবা কাঙ্খিত পৃষ্ঠাটি না পাওয়া গেলে এটি যে কোন সাইটেই দৃশ্যমান হয় এবং এক্ষেত্রে সাধারণত “404 File Not Found” লেখাটি দেখা যায়। তবে এর সাথে অন্যান্য সাহায্যকারী তথ্য বা সাইটের অন্যান্য পৃষ্ঠার লিংক যুক্ত করতে পারলে ব্যবহারকারীদের জন্য অনেক সুবিধা হয়।
কন্টেন্ট অপ্টিমাইজেশন
মানসম্মত ও স্বতন্ত্র কন্টেন্ট বা তথ্য হচ্ছে একটি ওয়েবসাইট জনপ্রিয় করার মূল হাতিয়ার। এটি একদিকে যেমন ব্যবহারকারীদেরকে সাইটে নিয়মিত আসতে প্রভাবিত করে, তেমনি গুগলের কাছেও সাইটের গুরুত্ব বেড়ে যায়। ওয়েবসাইটে লেখা সংযোজন করার পূর্বে কিওয়ার্ড নিয়ে গবেষণা এবং লেখায় এর প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। গুগলের “এডওয়ার্ডস” সাইটে এজন্য একটি টুল রয়েছে যা একটি কিওয়ার্ড কতটা জনপ্রিয় তা যাচাই করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এই টুলের মাধ্যমে নতুন নতুন কিওয়ার্ড সম্পর্কে জানা যায়। সাইটটির ঠিকানা হচ্ছে- https://adwords.google.com/o/KeywordTool। তাছাড়া গুগলের “ওয়েবমাস্টার টুলস” সাইটে শীর্ষ কিওয়ার্ডের একটি লিস্ট পাওয়া যায়, যা থেকে ব্যবহারকারীরা সাইটে ভিজিট করার পূর্বে গুগলে কোন কিওয়ার্ড ব্যবহার করে আসে তা জানা যায়। ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট তৈরি করার সময় বানান এবং ব্যাকরণের দিকে খেয়াল রাখা উচিত। লেখায় একাধিক বিষয়বস্তু থাকলে সেটিকে কয়েকটি প্যারাগ্রাফে ভাগ করে এবং শিরোনাম সহকারে লেখা উচিত।
এংকর টেক্সটের যথাযথ ব্যবহার
এংকর টেক্সট (Anchor Text) হচ্ছে HTML এর <a href=“…”></a> বা এংকর ট্যাগের ভেতরের শব্দগুচ্ছ যাতে ক্লিক করে অন্য কোন পৃষ্ঠা বা সাইটে যাওয়া যায়। এই টেক্সটি গুগল এবং ব্যবহারকারীদেরকে লিংক সম্পর্কে পূর্ব ধারণা দেয়। এই লিংকটি একই সাইটের অন্য কোন পৃষ্ঠার সাথে হতে পারে অথবা ভিন্ন কোন সাইটের সাথে সংযুক্ত হতে পারে। এংকর টেক্সটে “Click here”, “Page” বা “Article” এই জাতীয় সাধারণ শব্দ ব্যবহার না করে লিংককৃত পৃষ্ঠার বর্ণনামূলক হওয়া উচিত। এংকর টেক্সটটি যাতে অল্প কয়েকটি শব্দের সমন্নয়ে হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে, সম্পূর্ণ একটি বাক্যকে এংকর টেক্সট হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়। একটি সাধারণ লেখা থেকে লিংককে যাতে আলাদাভাবে চেনা যায় সেজন্য এংকর টেক্সটে ভিন্ন রং, আন্ডারলাইন ইত্যাদি CSS স্টাইল ব্যবহার করা যেতে পারে।
ছবির ব্যবহার
ওয়েবসাইটে ছবি বা ইমেজ যুক্ত করার সময় HTML এর <img src=“…” alt=“…” /> ট্যাগের মধ্যকার alt এট্রিবিউটে ছবির বর্ণনা যুক্ত করা উচিত। এর ফলে কোন ব্রাউজারে যদি ছবিটি না আসে তাহলে এই এট্রিবিউটের লেখাটি দৃশ্যমান হবে। একটি ছবিকে লিংক হিসেবে ব্যবহার করার সময় এটি এংকর টেক্সটেরও কাজ করে। অন্যদিকে এর মাধ্যমে গুগলের ইমেইজ সার্চের সাহায্য ব্যবহারকারীরা ছবিটি খুজে পাবে। ছবির বর্ণনার পাশাপাশি ছবির ফাইলে নামও বর্ণনামূলক ও সংক্ষিপ্ত হওয়া প্রয়োজন। সাইটের সাইটম্যাপ ফাইলের মত ছবির জন্যও একটি XML সাইটম্যাপ তৈরি করা যায়, যা গুগলকে ওয়েবসাইটের সকল ছবি সম্পর্কে ভাল ধারণা দেয়।
হেডিং ট্যাগ
HTML এ <h1> থেকে শুরু করে <h6> পর্যন্ত ৬টি হেডিং ট্যাগ রয়েছে যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিরোনামকে <h1> ট্যাগের মধ্যে এবং কম গুরুত্বপূর্ণ তথ্যকে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য হেডিং ট্যাগের মধ্যে লেখা হয়। হেডিং ট্যাগের লেখা যেহেতু পৃষ্ঠার অন্যান্য লেখা থেকে আকারে বড় হয়ে থাকে তাই এটি ব্যবহারকারীদের দৃষ্টি সহজেই আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয় এবং লেখার বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবহিত করতে ব্যবহারকারী ও গুগলকে সহায়তা করে। তবে একটি পৃষ্ঠায় মাত্রাধিক হেডিং ট্যাগ যাতে ব্যবহৃত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
robots.txt ফাইলের ব্যবহার
ক্রাউলার (Crawler) হচ্ছে একধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রাম যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইন্টারনেট ব্রাউজিং করে এবং নতুন নতুন তথ্য তার ডাটাবেইজে সংরক্ষণ (বা ক্রাউলিং) এবং সাজিয়ে (বা ইন্ডেক্সিং) রাখে। ক্রাউলার প্রোগ্রামকে প্রায় সময় ইন্ডেক্সার, বট, ওয়েব স্পাইডার, ওয়েব রোবট ইত্যাদি নামে ডাকা হয়। গুগলের ক্রাউলারটি “গুগলবট” নামে পরিচিত। গুগলবট নিরবিচ্ছিন্নভাবে ইন্টারনেটে বিচরণ করে বেড়ায় এবং যখনই নতুন কোন ওয়েবসাইট বা নতুন কোন তথ্যের সন্ধান পায়, এটি গুগলের সার্ভারে সংরক্ষণ করে রাখে। robots.txt হচ্ছে এমন একটি ফাইল যার মাধ্যমে একটি সাইটের নির্দিষ্ট কোন অংশকে ইন্ডেক্সিং করা থেকে সার্চ ইঞ্জিন তথা ক্রাউলারকে বিরত রাখা যায়। এই ফাইলটিকে সার্ভারের মূল ফোল্ডারের মধ্যে রাখতে হয়। একটি সাইটে এমন অনেক পৃষ্ঠা থাকতে পারে যা ব্যবহারকারী ও সার্চ ইঞ্জিন উভয়ের কাছে অপ্রয়োজনীয়, সেক্ষেত্রে এই ফাইলটি হচ্ছে একটি কার্যকরী সমাধান। গুগলের ওয়েবমাস্টার টুলস সাইট থেকে এই ফাইল তৈরি করা যায়।
nofollow লিংক সম্পর্কে সতর্কতা
গুগলবট একটি সাইটকে যখন ক্রাউলিং করতে থাকে তখন সেই সাইটে অন্য সাইটের লিংক পেলে তাতে ভিজিট করে এবং সেই সাইটকেও ক্রাউলিং করে। এক্ষেত্রে একটি সাইটের পেজরেংক (PR) এর উপর অন্য সাইটের পেজরেংকের প্রভাব পড়ে। HTML ট্যাগের <a> ট্যাগের মধ্যে “rel” এট্রিবিউটে “nofollow” দিয়ে রাখলে গুগল সেই লিংকে ভিজিট করা থেকে বিরত থাকে। nofollow লেখার নিয়ম হচ্ছে- <a href=“http://www.sitename.com” rel=“nofollow”>Site Name</a>। এটি মূলত বিভিন্ন ব্লগিং সাইটে পাঠকদের মন্তব্যে অবস্থিত লিংকে ব্যবহৃত হয়, যা স্প্যামার বা অনাকাঙ্খিত ভিজিটরদেরকে তাদের সাইটের পেজরেংক বাড়ানো প্রতিরোধ করে। এটি অযাচিত মন্তব্য প্রদানে স্প্যামারদেরকে নিরুৎসাহিত করে। তবে যেসকল ক্ষেত্রে স্প্যাম প্রতিরোধের ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে nofollow ব্যবহার না করা ভাল এতে পাঠকরা মন্তব্য প্রদানে উৎসাহিত হবে এবং সাইটের সাথে তাদের যোগাযোগ আর বেশি হবে।
ওয়েবসাইটের প্রচারণা এবং বিশ্লেষণ
একটি সাইটকে যখন অপর একটি সাইট লিংকের মাধ্যমে সংযুক্ত করে তখন একে বলা হয় ব্যাকলিংক (Backlink)। একটি সাইটের ব্যাকলিংক যত বেশি হবে গুগলের কাছে সেই সাইটের গুরুত্ব তত বাড়তে থাকবে এবং এর পেজরেংকও বাড়তে থাকবে। ফলস্বরূপ সার্চের মাধ্যমে আরো বেশি সংখ্যক ব্যবহারকারী সাইটে আসবে। বেশি করে ব্যাকলিংক পাবার জন্য ওয়েবসাইটে মানসম্মত তথ্য থাকা এবং এর সঠিক প্রচারণা প্রয়োজন। একটি সাইটে ভাল তথ্য থাকলে ব্যবহারকারীরা তাদের ওয়েবসাইটে স্বেচ্ছায় ব্যাকলিংক সংযুক্ত করবে। একটি ওয়েবসাইটের প্রচারণা দুই ধরনের হতে পারে- অনলাইন এবং অফলাইন। অনলাইন প্রচারণার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ব্লগিং। ওয়েবসাইটের সাথে একটি ব্লগ সংযুক্ত থাকলে এর মাধ্যমে ওয়েবসাইটের নতুন নতুন সার্ভিস বা পণ্যের সাথে ব্যবহারকারীদেরকে সহজেই পরিচয় করিয়ে দেয়া যায়। অনলাইন প্রচারণার মধ্যে আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে বিভিন্ন সামাজিক নেটওয়ার্কিং ও কমিউনিটি সাইটে প্রচারণা। তবে এসব সাইটে প্রচারণার ক্ষেত্রে একটু সংযমী হওয়া প্রয়োজন। ওয়েবসাইটের প্রত্যেকটি নতুন তথ্য বা যে কোন ছোটখাট পরিবর্তন শেয়ার না করে বেছে বেছে ভাল তথ্যগুলো সবাইকে জানানো উচিত। অন্যথায় এটি অন্যদের বিরক্তির উদ্রেক করে। নিজের সাইটের সমজাতীয় কমিউনিটি সাইট বা বিভিন্ন ফোরামে প্রচারণা করা ভাল, তবে সেসকল সাইটে অযথা পোস্ট প্রদান বা স্প্যামিং যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অফলাইন প্রচারণার মধ্যে রয়েছে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন, বিজনেস কার্ড তৈরি, পোস্টার, লিফলেট, নিউজলেটার প্রকাশ ইত্যাদি।
ফ্রি ওয়েবমাস্টার টুলের ব্যবহার
গুগলসহ অন্যান্য জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিনগুলো ওয়েবমাস্টারদের জন্য এসইও সহায়ক বিভিন্ন ফ্রি টুল প্রদান করে। গুগলের ওয়েবমাস্টার টুলস সাইটের মাধ্যমে একজন ওয়েবমাস্টার তার সাইট সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে পারে যা গুগলের সার্চ রেজাল্টে আরো ভালভাবে ওয়েবসাইটটি উপস্থিত হতে সহায়তা করে। এই সাইট থেকে যে সকল সার্ভিস বিনামূল্যে পাওয়া যায় সেগুলো হল-
• গুগলবট একটি সাইটের কোন অংশ ক্রাউলিং করতে না পারলে তা যায়।
• গুগলে একটি XML সাইটম্যাপ সাবমিট করা যায়।
• robots.txt ফাইল তৈরি করা যায়।
• title এবং description মেটা ট্যাগে কোন সমস্যা থাকলে তা সনাক্ত করা যায়।
• যে সকল সার্চ কিওয়ার্ডের ব্যবহারকারীরা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে সেগুলো সম্পর্কে জানা যায়।
• অন্য কোন কোন সাইট ব্যাকলিংক করেছে তা জানা যায়।
• আরো নানা ধরনের বিশ্লেষণধর্মী টুল।
পেজরেংক:
PageRank বা সংক্ষেপে PR হচ্ছে গুগল কর্তৃক ব্যবহৃত এক ধরনের লিংক এনালাইসিস এলগরিদম, যা দ্বারা একটি ওয়েবসাইট কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা নির্ধারণ করা হয় এবং সার্চের ফলাফলে এটিকে প্রধান্য দেয়া হয়। গুগলের কাছে যে ওয়েবসাইট যতটা গুরুত্বপূর্ণ তার পেজরেংক তত বেশি হয়ে থাকে এবং সার্চের ফলাফলে সেটি তত সামনের দিকে থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। সর্বোচ্চ পেজরেংক হচ্ছে ১০ এবং সর্বনিম্ন পেজরেংক হচ্ছে ০। গুগল টুলবারের সাহায্যে একটি সাইটের পেজরেংক জানা যায়।
ব্যাকলিংক:
ব্যাকলিংক (BackLink) লিংক হচ্ছে একটি সাইটের পেজরেংক বাড়ানোর মূল হাতিয়ার। একটি ওয়েবসাইটের কোন পৃষ্ঠায় যদি অন্য একটি সাইটের লিংক থাকে তাহলে দ্বিতীয় সাইটের জন্য এই লিংককে বলা হয় ব্যাকলিংক বা ইনকামিং লিংক। আর প্রথম সাইটের জন্য এই লিংকটি হচ্ছে আউটগোয়িং লিংক অর্থাৎ এই লিংকে ক্লিক করে ব্যবহারকারী দ্বিতীয় সাইটে চলে যাবে। এইভাবে একটি ওয়েবসাইটের যত বেশি ব্যাকলিংক থাকবে সেই ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারী আসার প্রবণতা বেড়ে যাবে। পাশাপাশি সার্চ ইঞ্জিনের রোবট প্রোগ্রাম সেই সাইটকে খুব সহজেই খুজে পাবে। ব্যাকলিংক বাড়ানোর অনেকগুলো পদ্ধতি রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পদ্ধতি হচ্ছে
১) লিংক বিনিময়: এটি হচ্ছে ভাল পেজরেংকের বিভিন্ন ওয়েবসাইটের সাথে নিজের ওয়েবসইটের লিংক বিনিময় অর্থাৎ অন্য ওয়েবসাইটের লিংক নিজের সাইটে যোগ করা এবং সেই সাইটে নিজের ওয়েবসাইটের লিংক যোগ করানো। এজন্য সাধারণত বিভিন্ন ওয়েবসাইটের অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের সাথে যোগাযোগ করে তাদেরকে লিংক বিনিময়ের প্রস্তাব জানানো হয়। আবার লিংক আদান প্রদানের জন্য বিভিন্ন ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে লিংক বিনিময়ে আগ্রহী ওয়েবসাইটের ঠিকানা পাওয়া যায়।
২) ফোরামে পোস্ট করা: এই পদ্ধতিতে প্রথমে একটি ভাল পেজরেংকের ফোরামের Signature এ নিজের ওয়েবসাইটের লিংক যোগ করতে হয়। তারপর সেই ফোরামে নতুন কোন পোস্ট করলে বা অন্যের পোস্টে মন্তব্য দিলে লিংকটি সেই পৃষ্ঠায় প্রদর্শিত হয়।
৩) আর্টিকেল জমা দেয়া: ইন্টারনেটে বিভিন্ন ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে নিজের সাইটের কোন লেখা সেই সাইটগুলোতে জমা দেয়া যায় এবং সেই লেখার মধ্যে প্রয়োজন অনুসারে নিজের সাইটের লিংক দিয়ে ব্যাকলিংক বাড়ানো যায়।
৪) ডাইরেক্টরীতে জমা দেয়া: বিভিন্ন ওয়েব ডাইরেক্টরী রয়েছে যেখানে বিনামূল্যে নিজের সাইটের তথ্য এবং লিংক জমা দেয়া যায়।
৫) অন্যের ব্লগে মন্তব্য দেয়া: অন্যের ব্লগে মন্তব্য দিয়ে এবং সাথে নিজের সাইটের লিংক যুক্ত করেও ব্যাকলিংক বাড়ানো যায়।
আয়ের উপায়:
SEO এর মাধ্যমে আয়ের বিভিন্ন উপায় রয়েছে। আপনি যদি নিজের সাইটের জন্য SEO করে থাকেন এবং এর মাধ্যমে সাইটে অধিক সংখ্যক ভিজিটর নিয়ে আসতে পারেন তাহলে নিঃসন্দেহে সাইটটি থেকে যেকোন ধরনের সার্ভিস বা পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। অনেকে আবার বিজ্ঞাপন থেকে আয় করেন। ইন্টারনেটে বিজ্ঞাপন থেকে আয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি হচ্ছে Google Adsense। সাইটের মধ্যে গুগল এ্যাডসেন্সের কোড যোগ করলে এটি ওয়েবসাইটের তথ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিজ্ঞাপন দেখায়। সেই বিজ্ঞাপনে কোন ভিজিটর ক্লিক করলে সাইটির মালিক একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আয় করেন। পরবর্তীতে চেকের মাধ্যমে সেই অর্থ তার কাছে পাঠানো হয়। বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি আউটসোর্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতেও SEO ভিত্তিক নানা কাজ পাওয়া যায়। কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে কিওয়ার্ড রিসার্চ, ব্যাকলিংক জোগাড় করা, অন পেজ অপটিমাইজেশন, কন্টেন্ট লেখা, এসইও কনসালটেন্ট ইত্যাদি।

oDesk Job question

oDesk জব পোস্টে সাধারণত যে ধরণের প্রশ্ন থাকে

1. Do you have suggestions to make this project run successfully?
প্রজেক্টটি সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্যে আপনার কোন সাজেশন আছে কি?
2. Have you taken any oDesk tests and done well on them that you think are relevant to this job?
এই কাজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোন ওডেস্ক টেস্ট কি দেয়া আছে এবং সেটার ফলাফল কেমন?
3. What part of this project most appeals to you?
এই কাজের কোন অংশটুকু আপনার কাছে সবচেয়ে আকর্ষনীয় মনে হচ্ছে?
4. What past project or job have you had that is most like this one and why?
ঠিক এরকম কোন প্রজেক্টে কি আগে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে, যদি করে থাকেন তবে কেন করেছিলেন?
5. Which part of this project do you think will take the most time?
প্রজেক্টের কোন অংশটি সম্পন্ন করতে সবচেয়ে বেশি সময় লাগবে বলে আপনার মনে হয়?
6. Do you have any question?
এই প্রজেক্ট সম্পর্কিত কোন প্রশ্ন আছে কি?
ভাল করে লক্ষ্য করে দেখুন, এখানে এমন কোন প্রশ্ন কিন্তু নেই যা সহজে বুঝা যায় না। যারা কাজটি ভালভাবে বুঝবেন অবশ্যই এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারবেন। কিন্তু সমস্যাটি আসলে সেখানেই হয় যখন কাজটি সম্পর্কে আপনার পুরোপুরি ধারণা থাকবে না অথবা কাজটি করার মত যোগ্যতা আপনার থাকবেনা।
তাই বুঝতেই পারছেন মার্কেটপ্লেসে প্রতিটি কাজের ধরণ হয় আলাদা, আর সেই কাজ অনুযায়ী এই প্রশ্নগুলোর উত্তরটা দিতে হয়। তাই পরামর্শ হলো আগে কাজটা ভাল করে বুঝতে চেষ্টা করুন, তারপর ভেবে দেখুন সে কাজের জন্যে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কি হতে পারে। পর্যায়ক্রমে কাজটি করলে আশা করি সমস্যা হবে না। আর যদি না পারেন কোন সমস্যা নেই। আগে কাজ শিখুন তারপর ফ্রিল্যান্সিং এর চিন্তা করুন। কাজ পারলে কাজ পেতে কখনো সমস্যা হয়না।
মনে রাখবেন ওডেস্কে ক্লায়েন্টরা টাকা দিয়ে সার্ভিস কিনতে আসে, সার্ভিস মন মত পাবার নিশ্চয়তা পেলেই তারা একজনকে হায়ার করে। আর সেজন্যেই এই প্রশ্নের ব্যবস্থা। প্রশ্নের উত্তর ভালভাবে দিতে পারছেন মানেই কাজ সম্পর্কে আপনার ধারণা আছে আর ধরে নেয়া যায় কাজটি আপনি পারবেন। তাই কাজ শিখে নিজেকে আগে স্মার্ট, সৎ, যোগ্য ও দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলুন। দেখবেন প্রশ্ন নিয়ে মাথা ঘামানোর কোন কারণই নেই। (সংগ্রিহীত)

Thousand dollar from google adsense

গুগল অ্যাডসেন্স থেকে মাসে হাজার ডলার

আমি রাশেদ হাসান আকাশ। কাজ করছি দেড় বছর যাবৎ গুগল অ্যাডসেন্স নিয়ে। আজকে যে লেখাটা লিখছি অনেকের কাছে তা হয়তো গল্প মনে হতে পারে; কিন্তু একবিন্দুুও মিথ্যে নয়। মাত্র বছর খানেক কাজ করেই আজ আমি প্রতি মাসে হাজার ডলারের মতো আয় করছি। আমার ছোট্ট এই সফলতাটুকু কীভাবে এল তা নিয়ে বিস্তারিত জানাতেই আজকের এই লেখা।

যেভাবে আমার ইন্টারনেট জগতে আগমন

২০০৯ সালের শেষের দিকে, তখন আমি একটি কোচিং সেন্টারে একজন কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করি। তখনই প্রথম ইন্টারনেট-এর সাথে আমার পরিচয়। আর তখন থেকেই আমি ইন্টারনেট সম্পর্কে জানি। এর কিছুদিন পর আমি একটা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলি। এটাই ছিল ইন্টারনেটে আমার প্রথম কাজ। তবে এটুকুতেই সীমাবদ্ধ ছিলাম অনেক দিন।

এক দিনের ঘটনা

AIUB-এর এক বড় ভাই আমার কম্পিউটারে একটা ভাইরাস ঢুকিয়ে দিল। আমি যখনই কম্পিউটার অন করি, ১০/১৫ সেকেন্ড পড়ে আবার বন্ধ হয়ে যায়। মাথায় কিছুই ঢুকছে না। কেন এমন হচ্ছে? কি ধরতে পেরেছেন? হ্যাঁ, তিনি আমার কম্পিউটারে একটা অটোরান ভাইরাস স্টার্টআপে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। পরে অবশ্য উনিই সেটা ঠিক করে দেন। আমি উনাকে জিজ্ঞেস করলাম, এটা কীভাবে করেছেন? তিনি আমাকে বললেন, টেকটিউনস নামে একটা ব্লগ আছে সেখান থেকে শিখেছি। আমি উনার কাছে লিঙ্ক চাইলাম। উনি আমাকে লিঙ্ক দিলেন। বুঝতেই পারিনি মুরসালিন ভাই (AIUB-এর ওই ভাইয়ের নাম ছিল মুরসালিন) আমাকে আসলে ব্লগের লিঙ্ক নয়, আমার লাইফের মোড় ঘুরানোর লিঙ্ক দিয়েছেন। তখন সারা দিন টেকটিউনস নিয়েই পড়ে থাকতাম। রাত জেগে জেগে লেখা পড়তাম। হঠাৎ একদিন চোখে পড়ল ‘ডেভসটিম লিমিটেড’ এর কো-ফাউন্ডার তাহের চৌধুরী সুমন ভাইয়ের ব্লগিং শুরু করা নিয়ে একটি লেখা। লেখাটা পড়তে আমার এতটাই ভালো লাগল যে, আমি সেদিনই উনার সমস্ত লেখাগুলো খোঁজা শুরু করলাম। পেয়েও গেলাম অ্যাডসেন্স নিয়ে উনার লেখাগুলো। ব্যস, আর যায় কোথায়? গারা দিন এগুলো পড়ি আর স্বপ্ন দেখি আমিও একদিন অ্যাডসেন্স থেকে ইনকাম করব। কিন্তু কীভাবে শুরু করব এটাই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। কথায় আছে, ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়। ঘাঁটতে ঘাঁটতে সুমন ভাইয়ের ফেসবুক আইডি পেয়ে গেলাম। দিলাম ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট! এরপর? সুমন ভাই আমার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করলেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘ভাই আমি ব্লগিং শিখতে চাই। আমি কীভাবে শুরু করব?’ সুমন ভাই আমাকে বললেন, ‘তুমি কী কী জানো?’ আমার সোজাসাপ্টা উত্তর, আমি কিছুই জানি না। সুমন ভাই তখন বললেন, ব্লগিং করতে গেলে আমাকে জানতে হবে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট বা কোনো সিএমএস সাইট ডিজাইন করার জন্য, জানতে হবে লেখালেখি এবং সাইটকে প্রমোট করার বিষয়গুলোও। উনি আমাকে বেশ কয়েকটা সাইটের লিঙ্কও দিলেন। এরপর শুরু করলাম ওয়েব ডেভেলপিং শেখা। মোটামুটি শেখার পর সুমন ভাইকে নক করলাম। উনি সাজেস্ট করলেন আমার জানাশোনা আছে এমন কোন বিষয় নিয়ে লেখালেখি করতে। এবার আরেকটা টেনশনে পরলাম। অ্যাকাউন্ট তো খুললাম, কিন্তু কী বিষয়ে আমি ব্লগিং করব? কারণ আমার জানাশোনার বিষয়গুলো খুবই কম।

বিষয় নির্বাচন নিয়ে মহা বিপদ

বিষয় খুঁজে পাচ্ছি না। মহা টেনশন! অবশেষে আবার আরেক ত্রাণকর্তার খোঁজ পেলাম। এবার কে জানেন? জিন্নাতুল হাসান ভাইয়ের বাংলা ব্লগ। সেখানে এক লেখকের লেখায় জানতে পারলাম, ‘আপনি যে বিষয়টি খুব ভালো জানেন, সে বিষয়টি নিয়েই ব্লগিং শুরু করেন।’ ঠিক সুমন ভাইয়ের মতোই উত্তর। আবার চিন্তা শুরু করলাম, আমি কোন বিষয়টা ভালো জানি? আমার কাছে মনে হয় আমি কিছুই জানি না। আবার মনে হয় দুনিয়ার সবই জানি। হা হা হা! আমি তখন প্রচুর বই পড়তাম। আচমকা মাথায় আইডিয়া এল, আমি যদি ই-বুক নিয়ে সাইট করি কেমন হয়? যেই ভাবা, সেই কাজ। শুরু করলাম ই-বুক নিয়ে কাজ। অবশেষে একটা সাইট দাঁড় করালাম ই-বুক নিয়ে। সাইটে তো বই আছে ঠিকই কিন্তু ভিজিটর কই?

সাইটে ভিজিটর নেই এখন উপায়?

কিছুদিন পর সুমন ভাইকে আবার মেসেজ দিলাম, ‘ভাই, আমি তো সাইট করেছি কিন্তু ইনকাম কই?’ সুমন ভাই বুঝিয়ে বললেন, সাইটে ইনকাম করতে হলে প্রথমেই দরকার প্রচুর পরিমাণে ভিজিটর। আমার সাইটে যত বেশি ভিজিটর আসবে তত দ্রুত আমার ইনকামের রাস্তা খুলবে। আর যায় কোথায়! শুরু করলাম ফেসবুকে, যেখানে-সেখানে আমার সাইটের লিংক পোস্ট করা। যার-তার সাইটে স্প্যামিং করা। কিন্তু ভিজিটর আসছেই না! যদিও আসে কিন্তু তারা থাকে না, চলে যায়। এখন উপায়? ইতিমধ্যে আমি অ্যাডসেন্সে অ্যাপ্লাইও করে ফেলেছি কিন্তু পাইনি।

পড়লাম নতুন সমস্যায়

একে তো সাইটে ভিজিটর নেই এই চিন্তায় আমি অস্থির, তার ওপর আবার হঠাৎ করে সুমন ভাই বললেন, তুমি যদি এভাবে করো তাহলে হবে না। তুমি যদি ব্লগিংকে পেশা হিসেবে নিতে চাও তাহলে Domain Hosting কিনে শুরু করো। এদিকে আমার বিশ্বাসে আস্তে আস্তে চির ধরতে শুরু করেছে, আমার পক্ষে হয়তো এসব সম্ভব হবে না। কিন্তু সুমন ভাইয়ের কথাগুলো আমি বিশ্বাস করতাম। তাই তাঁর কথা মতো ডোমেইন হোস্টিং কিনেই শুরু করলাম। আমি তত দিনে জুমলা শিখে গেছি। প্রথম ওয়েবসাইটটা বানালাম জুমলা দিয়ে। কিন্তু সমস্যাটা রয়েই গেল। সাইটে ভিজিটর নেই। আগেই জেনে গেছি যে, সাইটে ট্র্যাফিক (ভিজিটর) না থাকলে টাকাও নেই! সুতরাং সাইটের ভিজিটর বাড়ানো আমার জন্য অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুরু হলো এসইও শেখা

সাইটে ভিজিটর নেই কেন? কী করে সাইটে ভিজিটর বাড়ানো যায়? এসব নিয়ে যখন খুবই চিন্তায় আছি তখনই পাশে এসে দাঁড়ালেন সুমন ভাই। জানালেন এসইও-এর কথা। কিওয়ার্ড রিসার্স, অনপেইজ অপটিমাইজেশন, অফপেইজ অপটিমাইজেশন আরও কত কী! তাঁর লেখাগুলো এবং ইন্টারনেট থেকেও এসইও নিয়ে পড়াশোনা করতে বললেন। তাঁর কথামতো শুরু করলাম এসইও শেখা। যতটুকু শিখি ততটুকু আমার সাইটে অ্যাপ্লাইও করি। মাত্র ১০-১৫ দিনের মধ্যেই দেখি আমার সাইটে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভিজিটর আসা শুরু করেছে। মুখের হাসিটাও আস্তে আস্তে ফুটতে শুরু করছে। কিন্তু ইনকাম কই?
দেখতে দেখতে ৭-৮ মাস পার হয়ে গেল। আমার সাইটে এখন অনেক ভিজিটর (দৈনিক ১০০০ পেইজভিউ)। সুমন ভাই বলল, এবার অ্যাডসেন্সে অ্যাপ্লাই করো। করলাম, কিন্তু পেলাম না। সুমন ভাইকে জানালাম। তিনি সাইট দেখে বললেন, সাইটের ডিজাইন পরিবর্তন করো আর বাংলা লেখাগুলো ডিলিট করো। উনার কথামতো সব ঠিকঠাক করে আবার অ্যাডসেন্সে অ্যাপ্লাই করলাম। চার দিন পর রিপ্লাই এল, আমার অ্যাকাউন্ট অ্যাক্টিভ হয়নি। কারণ Unacceptable content. আবার সুমন ভাইয়ের শরণাপন্ন হলাম। তিনি বললেন, আমি অ্যাডসেন্সের নীতিমালা পড়েছি কি না? আমি বললাম, না। তখন সুমন ভাই আমাকে বললেন, তুমি আমার আগের পোস্টগুলো আবার পড়ো। সেখানে সুমন ভাইয়ের কিছু লেখা দেখে বুঝতে পারলাম আমার সাইটে আরও ভালোমানের কনটেন্ট লাগবে, ভিজিটর আরও বেশি লাগবে, আরও বেশি পেইজভিউ লাগবে। আশা ছাড়লাম না। আবারও শুরু করলাম। ঘুরে-ফিরে আবারও SEO-তে যাওয়া লাগল।

অ্যাডসেন্স নামক সোনার হরিণটা পেয়েই গেলাম

দেখতে দেখতে এক বছর পার হয়ে গেলো। আমার ভিজিটরও বাড়তে থাকল। আমিও ওয়েব ডিজাইনিং শিখে গেছি। জুমলার ওপর মোটামুটি হাফেজ হয়ে গেছি। এবার আমার নিজের মনমানসিকতারও পরিবর্তন করলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম, টাকা ইনকাম করতে পারি বা না পারি প্রতিদিনই আমি আমার সাইটে নতুন নতুন বই আপলোড করব (তাই বলে ভাববেন না যে, আমি অ্যাডসেন্সের জন্য আবেদন করা ছেড়ে দিয়েছি)। সঠিকভাবে পোস্ট করি, সঠিকভাবে SEO করি, নিয়মিত ভিজিটরদের চাহিদার প্রতি খেয়াল রাখি। আমার তখন দৈনিক সাইট ভিজিট হয় ১২০০ বারের ওপর। অ্যাডসেন্স পাই আর না পাই, নিজেকে সার্থক মনে হতে লাগল। কে জানত, এরই মধ্যে আমি আরও এক জায়গায় সফল হয়ে যাচ্ছি। হ্যাঁ, আমি অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট পেয়ে গেছি। এবার আমাকে কে আটকায়?
অ্যাকাউন্ট তো পেয়েছি কিন্তু অ্যাডের কোড বসাব কোথায়? আবারও ত্রাণকর্তা সুমন ভাই। তিনি আমাকে মাসুদুর রশিদ ভাইয়ের লেখার লিংক দিলেন। তাঁর একটা লেখা থেকে জানতে পারলাম, কোথায় কোথায় অ্যাডের কোড বসাতে হবে, কীভাবে বসাতে হবে? একটা পেইজে সর্বোচ্চ কয়টা অ্যাডের কোড বসাতে পারব, কয়টা টেক্সট/ইমেজ/ব্যানার অ্যাড বসাতে পারব, ইত্যাদি। তার লেখা অনুসরণ করে সব অ্যাড বসালাম। এবার আসবে শুধু টাকা আর টাকা, টাকা আর টাকা!
হায় রে আমার ইনকাম! হায় রে আমার টাকা আর টাকা! আমি কি তখন জানতাম, রাস্তা আরও অনেক দূর!
এরই মধ্যে সুমন ভাইয়ের সেই বিখ্যাত লেখা ‘গুগল অ্যাডসেন্সধারীরা সাবধান হোন। অ্যাডসেন্স ব্যান এড়াতে লেখাটিতে বিশেষ দৃষ্টি দিন।’ বলেন তো দেখি, অ্যাডসেন্স পাওয়ার সাথে সাথে যদি কেউ এমন হুমকি দেয় তখন মেজাজটা কেমন হয়? ভাগ্য ভালো, সেদিন উনার লেখাটা আমার নজরে পড়েছিল। নয়তো কবেই আমার অ্যাকাউন্ট পটল তুলত!

মাস শেষ কিন্তু ইনকাম মাত্র ১৬ সেন্ট!

এক মাস হয়ে গেল। আমার ইনকাম হল মাত্র ১৬ সেন্ট! অ্যাডে ক্লিক পড়ে অনেক কম। অথচ প্রতিদিন সাইট ভিজিট হয় ১২০০ বারেরও বেশি। বিশ্বাস করা যায়! এত দিনে আমি মাসুদুর রশিদ ভাইকে চিনে ফেলেছি। তাই তাঁর শরণাপন্ন হলাম। তিনি আমাকে বললেন, তুমি SEO করার সময় যেসব Keyword ব্যবহার করেছ সেগুলোর ক্লিকের দাম কম, তাই তোমার ইনকামও কম।
এবার আবার শুরু হলো কিওয়ার্ড রিসার্চ। এক মাস পর আমার অ্যাকাউন্টে দেখি ১১৩ ডলার ৮০ সেন্ট! হয়তো অনেক কম কিন্তু অ্যাকাউন্ট পাওয়ার ২ মাস পর ১১৩ ডলার আমার মতো ছেলের জন্য অনেক ছিল। অবশেষে গুগল আমার চেক ইস্যু করল। পাঠিয়ে দিল আমার অনেক কষ্টার্জিত ১১৩ ডলার ৮০ সেন্ট আমার বাসার ঠিকানায়।

সময় এবার অপেক্ষার কখন আসবে সেই চেক?

চেক আর আসে না। সময়ও যেন কাটে না। কেন জানি না, এই সময়টায় আমি ‘সময় যেন কাটে না’ গানটা একটু বেশি শুনছি। সুমন ভাইকে ফোন দিই আর বলি, ভাই আমার চেক তো এল না। সুমন ভাই বলে অপেক্ষা করো, চলে আসবে। শাকিল আরেফিন ভাইকেও ফোন দিই আর বলি, ভাই আমার চেক তো এল না। তিনিও বলেন, অপেক্ষা করো, চলে আসবে। একইভাবে ফোন দিই মাহবুব ভাইকেও। সবাই একই কথা বলে, অপেক্ষা করো, চলে আসবে। আমিও তখন মনকে বোঝাই, অপেক্ষা করো, চলে আসবে!

অবশেষে এল সেই স্বপ্নের চেক!

২৭ দিন পর অফিসে এসে ডাকপিয়ন আমাকে গুগল অ্যাডসেন্সের চেক দিয়ে যায়। মনে যে কী খুশি লেগেছিল বোঝাতে পারব না। ঠিক এখন আপনাদের কাছে যেমন লাগছে, আমার কাছে তার চেয়েও অনেক বেশি লেগেছিল। সাথে সাথে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলাম। সুমন ভাইকে জানালাম, মাহবুব ভাইকে জানালাম, শাকিল আরেফিন ভাইকে জানালাম, সাব্বির ভাইকে জানালাম, মাসুদ ভাইকেও জানালাম। টেকটিউনস-এর সবাইকে জানালাম। অন্য রকম একটা দিন উদ্যাপন করলাম। আর স্বপ্ন দেখতে লাগলাম প্রতি মাসে একটা করে গুগলের চেক পাব।
কে জানত, কয় দিন পর আমার ওপর দিয়ে কী একটা ঝড়ই না যাবে!

‘অতি লোভে তাঁতি নষ্ট’ মরতে মরতে বেঁচে গেছি

তখন আমার দৈনিক দুই ডলারের মতো ইনকাম হতো। হঠাৎ একদিন মাথায় দুষ্টু বুদ্ধি চেপে বসল। কী জানেন? IP Hide করে নিজের অ্যাডে নিজেই ক্লিক করার সিদ্ধান্ত নিলাম। যেই ভাবা, সেই কাজ। দিলাম আমার আইপি হাইড করে American আইপি বানিয়ে। আর সাইটে গিয়ে দিলাম ৩-৪টা ক্লিক! ৩-৪ ঘণ্টা পর দেখি আমার অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে ২২ ডলার। মাথা নষ্ট! এখন থেকে দৈনিক আইপি হাইড করে ক্লিক দেব। হঠাৎ সন্দেহ হলো, আমার আইপি কি গুগল ধরতে পারবে? দিলাম গুগলে সার্চ ‘What is my real IP?’ ওমা! আমার তো দেখি আসল আইপিই শো করছে! সাথে সাথে দিলাম সুমন ভাইকে ফোন। ভাই, এখন আমি কী করব? তিনি প্রথমে ছোট ভাইয়ের মতো ইচ্ছামতো শাসালেন। তারপর বললেন পেইজভিউ কত? বললাম ৩০০০-এর বেশি। তিনি বললেন, যা করেছো তা তো আর ফিরে পাওয়া যাবে না, তবে জীবনেও আর এই কাজ করো না। আমি বললাম, আচ্ছা। বিশ্বাস করুন, আমি আর জীবনেও এই কাজ করিনি, আর কোনো দিন করবও না। শেষে দেখা যাবে, আমও যাবে, ছালাও যাবে। তাই এসব বাদ দিয়ে ঠিক পথে ইনকাম শুরু করলাম। আর সবাইকে জানাতে লাগলাম যে আমার সাইটে প্রচুর পরিমাণে বই পাওয়া যায়। এসব করে ভিজিটর বাড়াতে লাগলাম।
কে জানত, আমি ঠিক পথে থাকলেও কিছু কিছু মানুষ ইতিমধ্যেই আমার ক্ষতি করা শুরু করে দিয়েছে!

লিংক শেয়ার করে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারলাম!

একটি ব্লগে গিয়ে একদিন দেখি একজন হূমায়ূন আহমেদের বই খুঁজছে। বেচারার প্রতি সদয় হয়ে আমি আমার ওয়েবসাইটের লিংকটা সেখানে শেয়ার করলাম (নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারলাম)। ঘণ্টাখানেক পর আমার অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্টে গিয়ে দেখি ক্লিক পড়েছে ১৩০টা! ইনকাম হয়েছে ৪৫ ডলার! কি? খুব খুশি লাগছে শুনে তাই না? কিন্তু না? আমার কপাল ভালো যে আমি সেদিন এত ইনকাম দেখে খুশি হতে পারিনি। যদি খুশি হতাম তাহলে আমার এই লেখাও হতো না, অ্যাকাউন্টও আর থাকত না। কিছু বুঝতে পারছি না কী করব? উপায় না দেখে সাইটই অফলাইনে নিয়ে গেলাম। এখন আবার চিন্তা, সাইট যদি ভিজিট না হয় তাহলে তো পেইজভিউ বাড়বে না। পেইজ CTR ১৫ এর উপরে। যেখানে ১০ হলেই বিনা নোটিশে অ্যাকাউন্ট ব্যান করে দেয় সেখানে ১৫। ভাবা যায়! আবার ফোন দিলাম সুমন ভাইকে (যেখানেই বিপদ সেখানেই সুমন ভাই। আমার বিশ্বাস হয় না, একটা মানুষ এত হেল্পফুল হয় কীভাবে, তাও আবার নিঃস্বার্থভাবে)। তিনি আমাকে বললেন, তোমার অ্যাডের কোডগুলো আপাতত ব্লক করে দাও। তাহলে পেইজভিউ বাড়বে কিন্তু কোনো ক্লিক পড়লে গুগল কাউন্ট করবে না। উনার কথামতো অ্যাড ব্লক করে দিলাম। কিছুক্ষণ পর দেখি আমার পেইজ CTR কমা শুরু করেছে। আর সেই ৪৫ ডলার মাইনাস হয়ে আমার আগের ইনকাম ৩ ডলার দেখাচ্ছে। শালা কত্ত খারাপ! ৪৫ ডলার যখন দিলি তখন আবার মাইনাস করলি কেন?

 এখন আমার কী অবস্থা?

আমার বর্তমান অবস্থা জানতে বেশি কিছু লাগবে না। শুধু আমার আজকের ইনকামের স্ক্রিনশটটা দেখুন
Google Adsense
ছবিটি গত ১৫/০১/২০১৪ তারিখে তোলা
সবশেষে কৃতজ্ঞতা জানাই তাহের চৌধুরী সুমন ভাই, মাসুদুর রশিদ ভাই ও ডেভসটিমের কাছে। যাঁদের সহযোগিতা না পেলে আজ আমি এত দূর আসতে পারতাম না। আমি সব জায়গায়, সব সময় সুমন ভাইয়ের কথা স্মরণ করি। সুমন ভাই, আপনি শুধু আমাকে পথই দেখাননি, আমার জীবনটাও বদলে দিয়েছেন। আই স্যালুট ইউ, ম্যান!
রাশেদ হাসান আকাশ
অ্যাডসেন্স পাবলিশার

গুগল অ্যাডসেন্স

গুগল অ্যাডসেন্স

অ্যাডসেন্স হলো সার্চ ইঞ্জিন গুগল পরিচালিত একটি ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন। একটি ওয়েবসাইটের মালিক কিছু শর্তসাপেক্ষে তার সাইটে গুগল নির্ধারিত বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে তা থেকে অর্থ উপার্জন করতে পারে। আউটসোর্সিং ছাড়া অন্য সব কাজের মধ্যে সবচেয়ে ভালো হলো গুগল অ্যাডসেন্স। গুগল অ্যাডসেন্সে অ্যাকাউন্ট খোলার ঠিকানা হলো :
www.google.com/adsense/signup

গুগল অ্যাডসেন্স কী?

আমরা জানি, কোনো কিছু প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। ইন্টারনেটে অনেক ওয়েবসাইট আছে। কেউ যদি তার ওয়েবসাইটের প্রচার আরও বাড়াতে চায় তাহলে সে গুগলের কাছে বিজ্ঞাপন দিতে পারে। গুগল সেই বিজ্ঞাপন নিয়ে অন্যান্য জনপ্রিয় ওয়েবসাইটে দেয়। গুগল যার কাছ থেকে বিজ্ঞাপন নেয় তার কাছ থেকে পেমেন্ট পায়, আর যার সাইটে বিজ্ঞাপন দেয় তাকে পেমেন্ট দেয়। গুগল এখানে একটি মিডিয়া হিসেবে কাজ করে এবং কমিশন রাখে। যে কেউ ইচ্ছা করলে তার সাইটে বিজ্ঞাপন দেয়ার জন্য গুগলের কাছে আবেদন করতে পারে। গুগল তখন তার সাইট যাচাই করে দেখে। সাইট যদি গুগলের নিয়মনীতি সমর্থন করে তাহলে গুগল ঐ সাইটে বিজ্ঞাপন দেয়। যার সাইটে গুগল বিজ্ঞাপন দেয় তাকে গুগল নির্দিষ্ট পরিমাণ পেমেন্টও দেয়। বিজ্ঞাপন দেয়া-নেয়ার এই প্রক্রিয়াটিকেই গুগল অ্যাডসেন্স বলে।

গুগল অ্যাডসেন্স কীভাবে পাওয়া যায়?

গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয় করার জন্য প্রথমেই আপনার ভালো একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগ থাকতে হবে। তারপর সেই ওয়েবসাইট বা ব্লগের ঠিকানা দিয়ে গুগলের কাছে আবেদন করবেন। গুগল তখন ঐ ওয়েবসাইট বা ব্লগ যাচাই করে দেখবে। যাচাই করার পর গুগলের পছন্দ হলে গুগল অ্যাডসেন্সে আপনার অ্যাকাউন্ট অ্যাকটিভ করবে। অ্যাডসেন্সের ঐ অ্যাকাউন্টে অ্যাডের অনেক কোড পাওয়া যায়। অ্যাডের ঐ কোড আপনার ওয়েবসাইটে বা ব্লগে বসাবেন। যখন কোনো ভিজিটর আপনার সাইট বা ব্লগ ভিজিট করবে তখন যদি ঐ ভিজিটর অ্যাডের কোনো কোডে ক্লিক করে তাহলে আপনার অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট হারে পেমেন্ট (ডলার) যোগ হতে থাকবে। মাস শেষে আপনি সেগুলো তুলে আনতে পারবেন। তবে সাবধান! নিজের সাইটের অ্যাডে কখনো নিজে ক্লিক করবেন না। নিজের সাইটের অ্যাডে ক্লিক করলে গুগল ওই অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেবে। এমনকি অন্য কারো কম্পিউটার থেকেও ক্লিক করবেন না। কারণ গুগল Natural এবং Spam ক্লিকের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারে।

সহজে গুগল অ্যাডসেন্স পাওয়ার টিপস

১. সহজে গুগল অ্যাডসেন্সের অ্যাকাউন্ট পাওয়ার জন্য আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটি হতে হবে একটা নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর। যেমন : আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগটি যদি হয় কম্পিউটার টিপস এর ওপর তাহলে আপনার সকল আর্টিকেল, পোস্ট, পেইজ ইত্যাদি হবে কম্পিউটার টিপসসংক্রান্ত। সুতরাং অ্যাডসেন্স পাবার জন্য আপনাকে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর ওয়েবসাইট থাকতে হবে।
২. যে বিষয়টির ওপর ওয়েবসাইট তৈরি করবেন ওয়েবসাইট নামও দিতে পারেন সেই রিলেটেড। যেমন : www.computertips.com অথবা www.abcomputertips.com। সাধারণত ফ্রি ব্লগিং বা সাব-ডোমেইন-এর মাধ্যমে অ্যাডসেন্সের জন্য আবেদন করলে গুগল এগুলোকে কম গুরুত্ব দেয়। তাই সহজে অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট পাওয়ার জন্য টপ লেভেল ডোমেইন (যেমন : .com, .org ইত্যাদি) নির্বাচন করুন। আপনার ওয়েবসাইটের ডিজাইন মোটামুটি প্রফেশনাল হলে ভালো হয়। এ ক্ষেত্রে সুন্দর কোনো টেমপ্লেট বা থিম ব্যবহার করতে পারেন। গুগল কোনো ওয়েবসাইটকে অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট দেওয়ার আগে এই বিষয়গুলো খেয়াল করে।
৩. আপনার ওয়েবসাইটে বিষয়বস্তু সম্পর্কিত সুন্দর একটি লোগো যোগ করতে পারেন। কারণ এটা ইন্টারনেটে আপনার কোম্পানি বা ওয়েবসাইট সম্পর্কে একটি ভালো ধারণা প্রকাশ করবে এবং এর মাধ্যমে ওয়েবসাইটটি যে প্রফেশনাল, তা প্রকাশ পাবে।
৪. অ্যাডসেন্সের জন্য আবেদন করার আগে আপনার ওয়েবসাইটকে গুগলে Indexing অর্থাৎ গুগলের ডেটাবেইজ লিপিবদ্ধ করা উচিত। আর দ্রুত Indexing করার জন্য আপনি গুগল ওয়েবমাস্টার টুলে সাইট ভেরিফাই করে নিন। এ সময় আপনার ওয়েবসাইটের এক্সএমএল সাইটম্যাপটি যোগ করে দিন। এই প্রক্রিয়ায় ২৪ ঘণ্টার ভেতর আপনার ওয়েবসাইট গুগলে Indexing হয়ে যাবে। এসইওর জন্যও সাইটম্যাপ একটি গুরত্বপূর্ণ বিষয়। কীভাবে সাইটম্যাপ তৈরি করতে হয় এবং ওয়েবমাস্টার টুল দিয়ে ভেরিফাই করতে হয় তা ইউটিউবে দেখে নিতে পারেন। ইউটিউবে সার্চ দিলেই এ সম্পর্কে অনেক ভালো ভালো ভিডিও পাবেন।
৫. গুগল আসলে ভিজিটর খোঁজে। যদি আপনার সাইটে ভালো ভিজিটর থাকে তাহলে আপনার অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট পাওয়া কঠিন কিছু না। তাই চেষ্টা করুন প্রতিদিন অন্তত কিছু ইউনিক ভিজিটর আনার। এ ক্ষেত্রে প্রতিদিন যদি কিছু সোশ্যাল বুকমার্কিং করেন তাহলে ভালো ভিজিটর পাবেন।
৬. আপনার ওয়েবসাইটের কনটেন্ট হতে হবে ইউনিক। কনটেন্ট যত বেশি হবে ততই ভালো। কনটেন্ট বা আটিকেল কেমন হবে তা জানার জন্য অ্যাডসেন্সের Terms And Condition ভালোভাবে পড়ে নিন। এসইওতে বলা হয়ে থাকে ‘কনটেন্ট ইজ কিং’ তাই আপনার আর্টিকেলগুলো ১০০% ইউনিক হলে এসইওর জন্য ভালো। আর মনে রাখবেন ডুপ্লিকেট (কপি করা) আর্টিকেল ব্যবহার করলে গুগল অ্যাকাউন্ট ব্যান করে দিতে পারে। বিস্তারিত জানার জন্য নিচের দুটি ঠিকানায় গিয়ে পড়ে দেখতে পারেন।
https://support.google.com/adsense/answer/48182
https://www.google.com/adsense/localized-terms
৭. আপনার সাইটের প্রতিটি পেইজের জন্য On page SEO ঠিক করে নিন। প্রত্যেক পেইজের জন্য পেইজের সাথে সম্পর্কযুক্ত টাইটেল দিন। আকর্ষণীয় মেটা ডেসক্রিপশন ব্যবহার করুন।
৮. অনেক সময় দেখা যায় ব্লগের বা ওয়েবসাইটের কন্টাক্ট পেইজ, প্রাইভেসি এবং পলেসি পেইজ না থাকার কারণে গুগল অ্যাডসেন্স দেয় না। তাই একটা কন্টাক্ট পেইজ এবং একটা প্রাইভেসি এবং পলেসি পেইজ করে নেবেন। যাদের সাইটে প্রাইভেসি এবং পলেসি পেইজ নেই তারা এই লিংক থেকে করে নিতে পারেন। www.serprank.com/privacy-policy-generator/
উপরোক্ত বিষয়গুলো মেনে চললে খুব সহজেই আপনি একটি অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্টের মালিক হতে পারেন। অ্যাডসেন্স থেকে আয় করার জন্য আপনার ওয়েবসাইটকে ভালোভাবে এসইও করতে হবে অর্থাৎ আপনার ওয়েবসাইটে যত বেশি ভিজিটর আসবে তত বেশি ক্লিক পড়ার সম্ভাবনা থাকবে, তত বেশি আয় হবে।
গুগল অ্যাডসেন্স সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে নিচের ঠিকানায় যেতে পারেন বা গুগলে সার্চ দিতে পারেন।